ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তাঁর ভাষ্য, দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চলছে এবং তিনি নিজের দেশেই জীবনের শেষ পরিণতি দেখতে চান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে যান শেখ হাসিনা। এরপর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান বা দেশের বাইরে অবস্থান নেন। বর্তমানে দলটির কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাই তিনি আগে দেশে ফিরবেন এবং পরে অন্যদেরও আদালতে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা প্রকাশ করে দাবি করেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় সত্য প্রকাশ পাবে।
তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার মতে, দেশে ফেরার ঘোষণার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও আইনি অবস্থার ওপর। তাঁদের মতে, এ বিষয়ে এখনো দলীয় কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি বা কর্মপরিকল্পনা নেই।
এদিকে শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের আইনগত প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হওয়া উচিত।
অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শেখ হাসিনার বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সরকার বিষয়টি আইন অনুযায়ী দেখছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে।
Leave a comment