টিকটক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে শ্যালিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ছোট বোনকে বিয়ে করার মতো ঘটনা ঘটিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছেন মো. মাসুদ রানা নামের এক ব্যক্তি। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী সহকারী ও জনপ্রিয় টিকটকার। এই ইসলামবিরোধী ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে নিজের সেরেস্তার যাবতীয় কার্যক্রম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন নওগাঁ জজ কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মো. শাহীন কাদির ডলার।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আইনজীবী শাহীন কাদির ডলারের স্বাক্ষর করা একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর সিদ্ধান্ত ও অব্যাহতির কথা জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাসুদ রানাকে তার সেরেস্তার সমস্ত দাপ্তরিক ও আইনি কার্যক্রম থেকে চিরতরে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সম্মানিত মক্কেল ও সর্বসাধারণকে যেকোনো ধরনের মামলা, আইনি কার্যক্রম কিংবা অন্যান্য দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে মাসুদ রানার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, সেরেস্তার নাম কিংবা পরিচয় ব্যবহার করে তার সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্যও সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, মাসুদ রানার সঙ্গে কোনো ধরনের অননুমোদিত যোগাযোগ বা আর্থিক লেনদেন করা হলে তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর বর্তাবে; এর জন্য সেরেস্তা বা সেখানে কর্মরত অন্য কোনো স্টাফ বিন্দুমাত্র দায়ী থাকবেন না।
সম্প্রতি টিকটকার মাসুদ রানার ব্যক্তিগত জীবনের এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিজের শালিকাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন অশালীন অঙ্গভঙ্গিসংবলিত টিকটক ভিডিও তৈরি ও প্রকাশ করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর শালিকাকে ঘটা করে বিয়ে করার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে সর্বমহলে শুরু হয় নানা সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় মাসুদ রানা ও তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর মধ্যকার দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক কোন্দল নিরসনের কথা বলে মৌসুমীর ছোট বোন পূর্ণিমার সঙ্গে মাসুদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে গত ২৪ অক্টোবর তার নিজ ভাড়া বাসায় একটি জমকালো গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয় এবং ঠিক তার পরের দিনই তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে নিজের সাফাই গেয়ে আলোচিত টিকটকার মাসুদ রানা দাবি করেন, শ্যালিকার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তার সঙ্গে অতীতে তৈরি করা টিকটক ভিডিওগুলোর জন্য তাকে সামাজিক হেনস্তার শিকার হতে হতো। তাই প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর পূর্ণ সম্মতি ও সক্রিয় সহযোগিতাতেই তিনি শ্যালিকা পূর্ণিমাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে ইসলামি শরিয়ত ও ফিকাহ শাস্ত্র অনুযায়ী, কোনো মুসলিম পুরুষের জন্য জীবিত স্ত্রী এবং তার বোনকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ রাখা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একত্রে বিবাহে আবদ্ধ করার বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট ধর্মীয় আলেম মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যা হারাম ঘোষণা করেছেন, তা সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। সুতরাং একই সময়ে দুই বোনকে একসঙ্গে স্ত্রী হিসেবে রেখে সংসার করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। তবে প্রথম স্ত্রী মারা গেলে কিংবা তার সঙ্গে আইনসম্মতভাবে তালাক সম্পন্ন হওয়ার পর অন্য বোনকে বিয়ে করার বিধান রয়েছে।’
সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ পরিপন্থী এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত মাসুদ রানাকে আইনজীবী শাহীন কাদির ডলারের সেরেস্তার সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
Leave a comment