প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের রাষ্ট্রীয় জাপান সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছোট্ট মুহূর্ত বেশ আলোড়ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা অভ্যর্থনা জানানোর এক পর্যায়ে হাত মেলাতে (হ্যান্ডশেক) হাত বাড়ালেও, করমর্দন না করে মুখে মৃদু হাসি ও মার্জিত সৌজন্য প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। চমৎকার এই মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসামূলক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিট) নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর চত্বরে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। সেখানেই দ্বিপক্ষীয় সৌজন্য বিনিময়ের সময় এই ঘটনাটি ঘটে।
ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও ক্লিপটি নিয়ে নেটিজেনরা বিভিন্ন ইতিবাচক মন্তব্য করছেন। ফয়সাল হোসেন নামের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ডা. জুবাইদা রহমানকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তুলনা করে লিখেছেন, ‘তাকে বেগম জিয়ার মতোই অত্যন্ত মার্জিত ও ভদ্র বলে মনে হয়।’
আরেক নেটিজেন আলমাস লিখেছেন, ‘জাপানি পদস্থ কর্মকর্তা যখন অভ্যর্থনা জানাতে হাত বাড়ান, তখন জুবাইদা রহমান করমর্দন না করে মুখে ধন্যবাদ জানিয়ে চমৎকারভাবে সৌজন্য প্রকাশ করেন। তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসক ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের জায়গাটিতে সম্পূর্ণ অটল ছিলেন। আধুনিকতা মানেই নিজের সংস্কৃতি বিসর্জন দেওয়া নয়, বরং বিশ্বাস বজায় রেখেও যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা যায়, এটি তারই প্রমাণ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, জিয়া পরিবারের মধ্যে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংযমের যে প্রতিফলন দেখা যায়, তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, জাপানে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই জাপানি নেত্রী তাকাইচির কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে একটি যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে এবং জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে। চার দিনের এই ব্যস্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং মর্যাদাপূর্ণ ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন তিনি।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফর দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও বহুলাংশে জোরদার করবে। পাশাপাশি নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান মেগাপ্রজেক্ট ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে দ্রুত গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ)-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা গভীর করার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া উভয় পক্ষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আধুনিক কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং উন্নত মানবসম্পদ গঠনে যৌথ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
Leave a comment