যুক্তরাজ্যে জ্বালানির দাম হঠাৎ করেই রেকর্ড হারে বেড়ে গেছে, যার ফলে কিছু পেট্রোল স্টেশনে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২ ইউরো পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবেই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
আরএসি জানিয়েছে, মার্চ মাসে জ্বালানির দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। এই সময়ে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ২০ পেন্স এবং ডিজেলের দাম প্রায় ৪০ পেন্স পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত বেড়ে যায়—প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলার থেকে বেড়ে ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যদিও মার্চের শেষে তা কিছুটা কমে ১০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দামে প্রতি ১০ ডলার বৃদ্ধি পেলে পাম্পে জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৭ পেন্স বাড়ে।
ইংল্যান্ডের বোল্টনের কাছে এম৬১ মহাসড়কের একটি সেবাকেন্দ্রে চালকেরা দেখেছেন, নিয়মিত ডিজেলের দাম রাখা হয়েছে ২০০.৯ পেন্স প্রতি লিটার। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ১৯৯.৯ পেন্স দামে ডিজেল বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কাম্ব্রিয়ার পেনরিথ এলাকার একটি গ্যারেজের মালিক অ্যালান হান্টার বলেন, “আমরা যে দামে জ্বালানি কিনছি, সেই কারণেই এমন দাম রাখতে হচ্ছে। আমরা ছোট গ্রামীণ স্টেশন—ক্ষতিতে বিক্রি করা সম্ভব না।”
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে গড়ে ডিজেলের দাম প্রায় ১৮৫.২৩ পেন্স এবং পেট্রোলের দাম ১৫৪.৪৫ পেন্স হলেও, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের সময় জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে—একটি পারিবারিক গাড়ির ট্যাংক ভরতে এখন আগের তুলনায় পেট্রোলে প্রায় ১১ পাউন্ড এবং ডিজেলে প্রায় ২২ পাউন্ড বেশি খরচ হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানির দামের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে।
Leave a comment