২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের এক অবিস্মরণীয় ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ। গুলিবিদ্ধ কিশোর গোলাম নাফিজকে রিকশায় করে হাসপাতালের পথে নিয়ে যাওয়ার সেই সাহসী ও মানবিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এক অনন্য সম্মান পেতে যাচ্ছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত থাকার জন্য তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটা। ফার্মগেট পথচারী সেতুর নিচে গুলিবিদ্ধ হয় বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ১৭ বছরের কিশোর গোলাম নাফিজ। পুলিশ যখন নাফিজকে নূর মোহাম্মদের রিকশার পাদানিতে তুলে দেয়, তখনো মৃত্যুযন্ত্রণা উপেক্ষা করে জীবনের শেষ শক্তিতে রিকশার রডটি ধরে রেখেছিল নাফিজ—সেই ছবি ও ভিডিও সে সময় নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাধার মুখে ফার্মগেটের নিকটস্থ হাসপাতালে নাফিজকে ভর্তি করাতে না পেরে নূর মোহাম্মদ তাকে নিয়ে খামারবাড়ির দিকে ছুটে যান। পরে সেখান থেকে একটি অটোরিকশায় করে নাফিজকে হাসপাতালে পাঠানো হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
নূর মোহাম্মদের সেই ঐতিহাসিক রিকশাটি গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে এক ব্যবসায়ী ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে রিকশাটি কিনে নিয়েছিলেন স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণের জন্য।
রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ বলেন,এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমি সাধারণ একজন মানুষ, কোনোদিন ভাবিনি সংসদ অধিবেশনে বসার সুযোগ পাবো।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে যোগ দিতে নূর মোহাম্মদ ইতোমধ্যে সংসদ ভবন থেকে তার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেছেন। যদিও তিনি পড়তে পারেন না, তবে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাকে কার্ডটি সযত্নে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র পুনরুত্থানের প্রথম অধিবেশনে একজন সাধারণ শ্রমিকের এই উপস্থিতি জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a comment