Home উপ-সম্পাদকীয় ‘জয় বাংলা’ থেকে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’: রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে রাজনীতির প্রতিচ্ছবি
উপ-সম্পাদকীয়

‘জয় বাংলা’ থেকে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’: রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে রাজনীতির প্রতিচ্ছবি

Share
Share

কবি আবিদ কাওসার | রাষ্ট্রপতি—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এই পদ কোনো দল বা মতের নয়; এটি পুরো জাতির প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু যখন রাষ্ট্রপতির বক্তব্যই ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক রং ধারণ করে, তখন প্রশ্নটি কেবল ভাষার থাকে না—এটি রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার প্রশ্নে পরিণত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ সাহাব উদ্দীন চুপ্পু কে ঘিরে ‘জয় বাংলা’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ প্রসঙ্গ যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, তা বাংলাদেশের রাজনীতির একটি পুরোনো বাস্তবতাকে আবার সামনে এনেছে—ক্ষমতা বদলালে কি রাষ্ট্রীয় ভাষাও বদলে যায়?

বাংলাদেশের ইতিহাসে স্লোগান কখনোই নিছক শব্দ ছিল না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় “জয় বাংলা” হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার সংগ্রামের শক্তি, যা উচ্চারিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -এর বজ্রকণ্ঠে। অন্যদিকে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” নতুন জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয়তা পায় শহীদ জিয়াউর রহমান -এর রাজনৈতিক সময়কালে। ফলে দুটি স্লোগানই ইতিহাসের অংশ হলেও বাস্তব রাজনীতিতে এগুলো দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ঠিক এখানেই রাষ্ট্রপতির ভাষা নিয়ে প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকার কথা। কিন্তু যদি রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতীকের এমন পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এটি কি জাতীয় ঐক্যের বার্তা, নাকি ক্ষমতার বাতাস বুঝে ভাষা বদলের কৌশল?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার সঙ্গে ভাষা বদলের সংস্কৃতি নতুন নয়। তবে সেই প্রবণতা যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদেও প্রতিফলিত হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

রাষ্ট্রপতির প্রতিটি শব্দ কেবল ব্যক্তিগত মত নয়; সেটি রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকেও প্রতিনিধিত্ব করে। তাই সেই ভাষা হওয়া উচিত এমন, যা রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতিকে একত্রিত করে।

অবশেষে প্রশ্নটি থেকেই যায়—রাষ্ট্রপতির কণ্ঠ কি জাতির কণ্ঠ, নাকি ক্ষমতার প্রতিধ্বনি?
এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা কতটা অটুট থাকবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একজন আটক

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে নিখোঁজের একদিন পর সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তুহিন নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে আটক...

কি হয়েছিল অপ্রত্যিমের সঙ্গে? নিখোঁজের একদিন পর জঙ্গলে অপ্রতিমের লাশ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে নিখোঁজের একদিন পর সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল...

Related Articles

ঈদে মিলাদুন্নবী (স.), মানবতার মুক্তির বার্তা ও আমাদের করণীয়

কবি আবিদ কাওসার | প্রতি বছর বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা...

৭৭ বছরের আওয়ামী লীগ: ইতিহাসের নির্মাতা নাকি ইতিহাসের দায়ভার?

লেখক ও কবি আবিদ কাওসার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন খুব কম সংগঠন...

পররাষ্ট্রনীতির নামে আত্মসম্মানের অবমূল্যায়ন?

কবি আবিদ কাওসার | ওয়াশিংটনে সাম্প্রতিক আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি...

রক্তঝরা ভোর থেকে রাষ্ট্রচেতনার নির্মাণ

কবি আবিদ কাওসার | স্বাধীনতা—শব্দটি উচ্চারণে যত সহজ, তার বাস্তবতা ততটাই কঠিন,...