ছাত্রলীগের সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকা যদি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও সেই দায় এড়াতে পারেন না—এমন মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসান। একটি ভিডিওবার্তায় দেওয়া এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সারজিস আলম বর্তমানে পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাহদীর বক্তব্যে তার নাম উঠে আসায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
ভিডিওবার্তায় মাহদী হাসান বলেন, “পূর্বে ছাত্রলীগ করার কারণে যদি একজন মানুষকে অপরাধী বানানো হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলনের মূল সমন্বয়কারীদের মধ্যেও এমন অনেকে আছেন, যারা একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই তালিকায় সারজিস আলম ভাইও রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে তাকেও অপরাধী বলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, এই প্রবণতা শুধু একজনকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সারাদেশে একটি ‘ট্যাগিং রাজনীতি’র সূচনা হয়েছে। মাহদী বলেন,“যারা নিরপরাধ, কিন্তু একসময় ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে এবং যে আন্দোলনের নেতৃত্ব আমরা দিয়েছি, সেই জায়গা থেকে আমরা এই রাজনীতি মেনে নিতে পারি না।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার তাকে পুলিশ আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর মাহদী হাসানকে তার নিজ বাসা থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আটক করে।
পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাহদীর অনুসারীরা থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং কিছু সময়ের জন্য থানা ঘেরাও করে রাখেন।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাহদী হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে, সে বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ছাত্ররাজনীতিতে অতীত পরিচয় বনাম বর্তমান অবস্থানের দ্বন্দ্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে ‘ট্যাগিং রাজনীতি’র অভিযোগ, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই আন্দোলনের পর রাজনীতির মাঠে নতুন শক্তির উত্থান হলেও দায়িত্বশীল আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মাহদী হাসানের বক্তব্য ও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
Leave a comment