চীনে উচ্চ বেতনে চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আটকে রাখা ১২ নারীকে রাজধানীর উত্তরা ও ভাটারা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১। উদ্ধার হওয়া নারীদের মধ্যে দুজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। তাঁদের একজনের বয়স ১৫ বছর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এসআরবি-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
এসআরবি-১-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর বেলা তিনটার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার যমযম টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকা থেকে মেমাচি মারমা ও মাংশানু মগনিকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ভাটারা থানার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ নারীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অন্য নারীরা হলেন রেখা চাকমা, ক্যানচি চাকমা, বিরুপতি চাকমা, পূণ্যরেখা চাকমা, চাইছাইও মারমা, কৃষ্টিনা রোয়ালময় বৈল্টুং, পুষ্পিতা চাকমা, পিংকি চাকমা, ববিতা চাকমা ও আদর্শী চাকমা।
এসআরবি-১ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া নারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের চীনে নিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পরে বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে তাঁদের একটি বাসায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আটকে রাখার সময় তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।
এসআরবি-১ জানায়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের আবেদন পাওয়ার পর তাদের সিপিসি-২ অভিযান চালায়। উদ্ধার হওয়া দুই নারীর দেওয়া তথ্য এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে ভাটারার বাসাটিতে অভিযান চালানো হয়। গত ১৮ অক্টোবর করা ওই জিডির নম্বর ১২৩৮।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভাটারার বাসাটি ২৯৪১ নম্বর, ৫৬ নম্বর সড়কের এল ব্লকের একটি ভবনের সপ্তম তলায় অবস্থিত।
এসআরবি-১ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে উদ্ধার হওয়া ১২ নারীকে তাঁদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
Leave a comment