মিয়ানমারের লাউকাই শহরে প্রতারণা, খুন ও অবৈধ ব্যবসায় জড়িত কুখ্যাত মিং পরিবারের ১১ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চীনের আদালত। আরও ৩৯ জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মিং পরিবার দীর্ঘদিন ধরে লাউকাই শহরকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। তারা টেলিযোগাযোগ জালিয়াতি, অবৈধ ক্যাসিনো, মাদক পাচার ও দেহ ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাত।
আদালতের নথি অনুসারে, ২০১৫ সাল থেকে এই পরিবার প্রতারণা ও জুয়ার মাধ্যমে প্রায় এক হাজার কোটি ইউয়ান (প্রায় ১৭ হাজার ৬৯ কোটি টাকা) আয় করেছে । একসময় লাউকাই শহর চীনা জুয়াড়িদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল, যেখানে হাজারো বিদেশি প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হন।
মিং পরিবারের অন্যতম ঘাঁটি ছিল‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’। অন্তত ১০ হাজার মানুষকে জোরপূর্বক আটক রাখা হয়েছিল সেখানে। পালানোর চেষ্টা করলে গুলি চালানোর মতো নৃশংসতা চালানো হতো।
২০২৩ সালে মিয়ানমার সরকার অভিযান চালিয়ে মিং পরিবারের বহু সদস্যকে গ্রেপ্তার করে চীনের হাতে তুলে দেয়। ধারণা করা হয়, পরিবারের প্রধান মিং শুয়েচাং গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মহত্যা করেন। অন্য সদস্যরা চীনে এসে অপরাধ স্বীকার করেন।
বর্তমানে লাউকাই শহর মিয়ানমারের এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যাদের সঙ্গে চীনের আংশিক যোগাযোগ আছে বলে ধারণা করা হয়। চীনা পুলিশ ইতোমধ্যেই মিয়ানমার থেকে হাজারো প্রতারণাকারীকে ফেরত নিয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা মিং পরিবারের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশকে, সীমান্তবর্তী প্রতারণা চক্র দমনে বেইজিংয়ের কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন । চীনের চাপে থাইল্যান্ডও সম্প্রতি একই ধরনের অভিযান চালিয়েছে। তবে এ অবৈধ ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি—এখনও মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ার কিছু অংশে সক্রিয় রয়েছে।
Leave a comment