গাজা সিটির একটি ধসে পড়া আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার পাওয়া নিহতদের মধ্যে সিংহভাগই নারী ও শিশু। দীর্ঘ চার দিন ধরে একটানা তল্লাশি চালানোর পর এই উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধারকারীদের বরাতে জানা যায়, গাজার পশ্চিমাঞ্চলের ‘কারাম’ নামক একটি বহুতল ভবনে টানা চার দিন অনুসন্ধান চালিয়ে এই ১৯টি মরদেহ বের করে আনা সম্ভব হয়। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল গাজা সিটির অন্য একটি স্থানে নতুন অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। বর্তমানে সেখানে নতুন করে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দল।
গাজাজুড়ে ভবন ধ্বংসের পর চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে তীব্র গতিহীনতা দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া বিশালাকার কংক্রিটের স্ল্যাব সরাতে যে ধরণের ভারী যন্ত্রপাতি ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন, তার চরম সংকট রয়েছে পুরো অঞ্চলে। বাধ্য হয়ে প্রাথমিক কিছু সরঞ্জাম দিয়ে হাতে কলমে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য উপায়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালাতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে এখনো হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী, পুরো গাজা উপত্যকা জুড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ কিংবা চাপা পড়ে রয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেও বিভিন্ন সময়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে শত শত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
মানবিক এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি গাজা সিটিতে একই পরিবারের শতাধিক সদস্যকে গণদাফন করা হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতির সরবরাহ না বাড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা নিখোঁজদের জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a comment