ইরানের খারগ দ্বীপে অবস্থিত সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি করা হয়নি। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে দেওয়া এই মন্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিবিসির বিশ্লেষক মাইকি কে’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খারগ দ্বীপ ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। এখান থেকেই দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। ফলে এই দ্বীপকে অনেক সময় তেহরানের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি সত্ত্বেও তেল অবকাঠামো অক্ষত থাকার কথা উল্লেখ করায় বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কৌশলগতভাবে ইরানের অর্থনৈতিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত করা থেকে বিরত থাকতে চেয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি মেরিন ইউনিট এবং অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। সাধারণত এই ধরনের মেরিন ইউনিট সমুদ্রপথে দ্রুত আক্রমণ পরিচালনার জন্য প্রস্তুত থাকে এবং এতে কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে অবস্থানরত সর্বোচ্চ প্রায় পাঁচ হাজার মেরিন ও নাবিক অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের জন্য বিবিসি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র আরও বিস্তৃত সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান তাদের দিকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment