পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে একটি শপিংমলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ৬৫ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চললেও নিহতের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতের দিকে করাচির এমএ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত ‘গুল প্লাজা’ শপিংমলে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঐতিহাসিক এই বিপণিবিতানটিতে শত শত দোকান থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৩৬ ঘণ্টার টানা চেষ্টার পর সোমবার ভোরের দিকে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ভবনের ভেতরে এখনো ছোট ছোট আগুন জ্বলছে, পাশাপাশি ঘন ধোঁয়া ও অতিরিক্ত তাপের কারণে উদ্ধার অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ বলেন,“এখন পর্যন্ত আমরা ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। দুপুর ১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অন্তত ৬৫ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ভবনের ভেতরে ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৮০ জন ছাড়াতে পারে।”
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুনের তীব্রতায় ভবনটির সামনের অংশ ও পেছনের একাংশ ধসে পড়েছে। পাশাপাশি পুরোনো কাঠামোর বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি যেকোনো সময় সম্পূর্ণ ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
পাকিস্তানের জরুরি সেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২–এর মুখপাত্র হাসানুল হাসিব খান জানান,“আমরা প্রায় ৯৫ শতাংশ আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছি। তবে ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ও ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, প্রায় ১ হাজার ২০০ দোকান নিয়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল শপিংমলে কাপড়, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও প্রসাধনীর মতো বিপুল পরিমাণ দাহ্য পণ্য মজুত ছিল।
এরই মধ্যে ভবনটিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ধীরে ধীরে অভিযান চালাচ্ছে।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নতুন করে করাচির পুরোনো বাণিজ্যিক ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ও কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
Leave a comment