তেহরানে হামলার জবাবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। আকাশে একাধিক হুমকি শনাক্তের কথা জানিয়েছে আইডিএফ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা দ্রুত পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানসহ ইরানের পাঁচটি প্রধান শহরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরান ইসরায়েলের দিকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আইডিএফ নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরপরই দেশজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে এবং নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইডিএফের এক জরুরি বার্তায় বলা হয়, “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ঢেউ আমাদের সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান বাহিনী সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে হুমকি প্রতিহত করছে।”
তবে বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই শতভাগ নিখুঁত নয়। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে নাগরিকদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজধানী তেল আবিবসহ প্রধান শহরগুলোতে সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ইরানের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এই পাল্টা হামলা “শুরু মাত্র”। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের জবাব আরও কঠোর হতে পারে।
বিশেষ করে তেহরানের ইউনিভার্সিটি এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনার আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর ইরানের সামরিক নেতৃত্ব কঠোর প্রতিক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের পুরো আকাশসীমা বেসামরিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই সংঘাতে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ইরান-ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময় পরিস্থিতিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ দিতে পারে। এতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশাল নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ বর্তমানে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে। ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প ও নৌবাহিনীকে গুঁড়িয়ে দেবেন।
Leave a comment