মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযানের অংশ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে সামরিক ঘাঁটি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। হামলায় কিছু মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত যাচাই করা ভিডিও এবং মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর কয়েকটি স্থাপনায় একাধিকবার হামলা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের এই পাল্টা হামলা দেখিয়েছে যে দেশটি যুদ্ধের জন্য অনেকের ধারণার তুলনায় বেশি প্রস্তুত ছিল।
সংঘাতের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসব স্থানের স্যাটেলাইট ছবিতে ভবন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
পেন্টাগনের একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে একক হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে।
এদিকে ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরের একটি স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। একই দিনে সৌদি আরবে পৃথক আরেকটি হামলায় আরও এক সেনা নিহত হন বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর মধ্যে টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশও রয়েছে, যা আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়।
মার্কিন ও মিত্র বাহিনী অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করলেও, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এই হামলাগুলো বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
Leave a comment