ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকবে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর বেশি দূর পর্যন্ত এই সংঘাত বাড়াতে আগ্রহী নয়।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরান যদি আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে দেশটির সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তার ভাষায়, “তারা যদি আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না—কিছুই থাকবে না।”
তবে একই বক্তব্যে কিছুটা সংযত অবস্থানও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে চায় না এবং তিনি নিজেও “বেশি দূর যেতে চান না।”
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের তেলসম্পদ নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে ইরানের তেল নিয়ে আসতেন এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যবহার করতেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন জনগণ বিদেশি সংঘাত থেকে দেশে ফিরে আসার পক্ষেই বেশি সমর্থন দিচ্ছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, “উন্মাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র দেওয়া যায় না।”
এদিকে, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় তিনি বলেন, সেটি “লাকি শট” বা আকস্মিক আঘাতের ফল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মার্কিন কিছু হেলিকপ্টারেও গুলির চিহ্ন রয়েছে।
ট্রাম্পের এই দ্বৈত বার্তা—একদিকে কঠোর হুমকি, অন্যদিকে সংঘাত না বাড়ানোর ইঙ্গিত—মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
Leave a comment