নওগাঁর মহাদেবপুরে ব্যবসায়ীর ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পিকআপচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিম বগুড়ায় মালামাল বিক্রি করে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে পিকআপে করে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন। সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুরের উত্তর গ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে পিকআপটি বিকল হয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত পিকআপের চালক সোহেল রানা ও ব্যবস্থাপক মজনু মিয়াকে মারধর করে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে প্রথমে রামচন্দ্রপুর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্নাকে (২৪) গ্রেপ্তার করে। তাঁর বাড়ি থেকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঈশ্বর লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রবিনকে (২৫) তাঁর ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুল আলিমের পিকআপচালক সোহেল রানা (২৫)। সোহেল, মুন্না ও রবিন মিলে প্রায় এক সপ্তাহ আগে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। ঘটনার পর সোহেল নিজেকে আহত দেখিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। পরে সেখান থেকে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে ছিনতাই ও ডাকাতিসহ অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ কাজ করছে। এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment