ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি মুসলিম নাগরিকদের অভূতপূর্ব ও রেকর্ড ভোটাধিকার প্রয়োগের ফলে দেশটির সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে এক ঐতিহাসিক মোড় এসেছে। আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের সরাসরি প্রভাবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট এবং বিরোধী দলীয় জোট—কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
গত মঙ্গলবার নির্বাচন শেষে প্রকাশিত প্রাথমিক বুথফেরত সমীক্ষা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১২০টি আসনবিশিষ্ট ইসরায়েলি পার্লামেন্ট বা নেসেটে সরকার গঠনের সুনির্দিষ্ট জাদুকরী সংখ্যা হলো ৬১টি। তবে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সর্বোচ্চ ৫০টি আসন এবং বিরোধী দলগুলোর জোট ৫৩টি আসন নিশ্চিত করতে পারে। এর ফলে কোনো একক প্রধান জোটই সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় অবস্থানে পৌঁছাতে পারছে না।
এই নির্বাচনের সবচেয়ে প্রভাবশালী নিয়ামক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল—‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘রাম’ (Ra’am)। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুটি আরব ও মুসলিম সমর্থিত জোট যৌথভাবে প্রায় ১৭টি আসনে জয়লাভ করতে যাচ্ছে। এই সাফল্য ইসরায়েলি পার্লামেন্টের ইতিহাসে আরব আইনপ্রণেতাদের প্রতিনিধিত্বকে এক অনন্য ও রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান জটিল সমীকরণে নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী শিবির—যে পক্ষই ক্ষমতায় যেতে চাক না কেন, ফিলিস্তিনি মুসলিম সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন নেওয়া তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। মুসলিম প্রতিনিধি ও জোটগুলোর হাত না ধরে কিংবা তাদের সঙ্গে আপস না করে এককভাবে নতুন সরকার গঠন করা এখন উভয় পক্ষের জন্যই বাস্তবে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a comment