সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাঁধনপাড়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত একটি বসতঘরের পারিবারিক মন্দিরের তালা ভেঙে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো রাধা-মদনমোহনের দুটি অমূল্য বিগ্রহসহ স্বর্ণালংকার ও পূজার সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে সংঘটিত এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে বাঁধনপাড়ার সরকারি মহিলা কলেজ রোডের মৃত বিনোদ লাল চক্রবর্তীর ছেলে রাজ গোবিন্দ চক্রবর্তীর বাসার মন্দিরের প্রধান দরজার তালা ভেঙে এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ভুক্তভোগী রাজ গোবিন্দ চক্রবর্তী জানান, চুরি হওয়া বিগ্রহগুলোর মধ্যে প্রায় ২০ কেজি ওজনের ও দুই ফুট দীর্ঘ মদনমোহন মূর্তি এবং ১৫ কেজি ওজনের এক ফুট দীর্ঘ রাধা মূর্তি ছিল। এছাড়া সাত ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি গণেশের মূর্তি, মূর্তির গায়ে থাকা সোনার চেইন, একটি রুপার বাঁশি, তিনটি চূড়া, পুরোনো কাঁসার থালা-বাসন ও পূজার বিভিন্ন তৈজসপত্র খোয়া গেছে। একই সঙ্গে বাসার নিচতলার সংলগ্ন একটি স্টেশনারি দোকান থেকেও নগদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা চুরি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের দাদার আমলের শতবর্ষী এই বিগ্রহগুলো তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। টাকা-পয়সার ক্ষতি বড় না হলেও তারা দ্রুত বিগ্রহগুলো অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে কল্লোল চক্রবর্তী হিমু গণমাধ্যমকে জানান, ঠাকুরঘর থেকে তাদের শতাব্দীপ্রাচীন রাধা-মদনমোহন মূর্তিগুলো যেভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাতে তাদের বসতঘর ও দোকানের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিগ্রহগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
খবর পেয়ে বুধবার সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ। এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জোহাব আলী জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই চুরির সঙ্গে পেশাদার চোরের দল নয়, বরং পরিচিত বা পূর্বপরিচিত কেউ জড়িত থাকতে পারে। কারণ অপরাধীরা বাড়ির ভেতরের মূল্যবান সামগ্রীর সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে ভালোভাবেই অবহিত ছিল। তাছাড়া এই ধরনের প্রাচীন মূর্তি চাইলেই খোলা বাজারে সহজে বিক্রি করা সম্ভব নয়। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
Leave a comment