গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই শিশুসন্তানের সামনে ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। ঘটনার বিচার ও প্রতিকার না পাওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে তাঁর চার বছর বয়সী বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে। তবে ওই নারী ও তাঁর দুই বছর বয়সী ছোট ছেলে অক্ষত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি পানের আড়তের পাশে নির্জন স্থানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওই নারীর।
ওই নারীর অভিযোগ, স্থানীয় পান ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন (৩৫) আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে তাঁকে দুই সন্তানসহ ওই স্থানে নিয়ে যান। সেখানে দুই শিশুর সামনেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। তাঁর দুই সন্তান কান্নাকাটি ও চিৎকার করলেও ধর্ষণ বন্ধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই নারী শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন নেত্রকোনার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় পান ব্যবসা করছেন।
ওই নারীর ভাষ্য, প্রায় এক বছর আগে তাঁর স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। বাসাভাড়া বকেয়া থাকায় মঙ্গলবার দুপুরে জৈনা বাজার এলাকার বাসা থেকে বাড়ির মালিক তাঁকে দুই সন্তানসহ বের করে দেন। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় উড়ালসেতুর নিচের ফুটপাতে আশ্রয় নেন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোহরাব তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে পানের আড়তের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। সেখানে ধর্ষণের পর তাঁকে ফেলে সোহরাব চলে যান বলেও দাবি করেন তিনি।
পরদিন বুধবার সকালে ওই নারী পানের আড়তে গিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে বিষয়টি জানান। তাঁর অভিযোগ, গৌতম ও শহীদ নামের দুই পান ব্যবসায়ী টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গিয়ে গাড়ির নিচে ঝাঁপ দেন ওই নারী। এ সময় একটি গাড়ির নিচে পড়ে তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ওই নারীর অভিযোগ, ঘটনা কাউকে না জানাতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ প্রকাশ করলে তাঁর দুই সন্তানকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় পানের আড়তদার মহসিন আলী বলেন, সোহরাব কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় পান ব্যবসা করছেন। ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর তিনি সেখান থেকে চলে যান।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওই নারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আহত শিশুর চিকিৎসার ব্যয়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
Leave a comment