দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও গ্যাস সংকট নিরসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নব্য উন্মোচিত এই কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কূপের উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) বাস্তবায়নে এবং চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএনপিসি চুয়াংছিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের’ (সিসিডিসি) পরিচালনায় কূপটির খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৫০১ মিটার গভীরতায় খননকাজ শেষের পর এর সফল কারিগরি পরীক্ষা (ডিএসটি ও প্রোডাকশন টেস্টিং) পরিচালনা করা হয়। উদ্বোধন শেষে উপস্থিত অতিথিরা তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের চলমান অনুসন্ধান কূপ তিতাস-৩১ ও তিতাস-১৯-এর খননকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জন ও গ্যাসের যোগান নিশ্চিত করতে সরকার দেশব্যাপী নতুন কূপ খননের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই ধরনের ছোট-বড় সফল পদক্ষেপের মাধ্যমেই খুব শিগগিরই চাহিদা ও সরবরাহের বিদ্যমান ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিজিএফসিএল বর্তমানে দেশীয় মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করছে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করতে সংস্থাটি নতুন কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের মতো একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে।
Leave a comment