মোহাম্মদ রাহবার ইসলাম তুর্য্য
অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণার পরিধি বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) তিনটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটের এসব প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলনকক্ষে প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন নিয়ে একটি নীতিনির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। সভায় বিভিন্ন স্কুলের ডিন, পরিচালক, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট, ছাত্রবিষয়ক পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল ইসলাম প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর কারিগরি ও আর্থিক দিক তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানিক ও একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। ‘অধিকতর অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের যাচাই সভাও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শেষ হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সক্ষমতা আধুনিকায়নে পৃথক একটি ডিপিপি তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রস্তাবিত নকশা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হল সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
পঞ্চম একাডেমিক ভবন: ভবনটিতে ৪৭টি শ্রেণিকক্ষ, ১৭টি ল্যাব, ১১টি লাইব্রেরি কক্ষ ও ৬৬টি শিক্ষকের কক্ষ থাকবে। ভবনটি নির্মিত হলে অন্তত ১ হাজার ১১২ জন শিক্ষার্থীর একাডেমিক সুবিধা তৈরি হবে।
চারুকলা ভবন: চারুকলা ইনস্টিটিউটের জন্য প্রস্তাবিত এ ভবনে ১০টি থিওরি রুম, ৬টি স্টুডিও, ১১টি ল্যাব ও ৫টি লাইব্রেরি কক্ষ থাকবে। এতে ১ হাজার ৬৮ জন শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে।
খানজাহান আলী হল সম্প্রসারণ: বর্তমানে হলটির আসনসংখ্যা ৪০৪। সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও ৪৬০টি আসন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অপরাজিতা হল সম্প্রসারণ: ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনে বর্তমান ৫৭৬ আসনের সঙ্গে আরও ১ হাজার ৮৪টি আসন যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন ছাত্র হল: ১ হাজার ৭২ জন শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন একটি ছাত্র হল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি ও আবাসিক হলের তীব্র সংকট নিরসনে নতুন ডিপিপিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়নকাজের একটি বড় অংশ দৃশ্যমান হবে। একই সঙ্গে ন্যানোটেকনোলজিসহ উচ্চতর মৌলিক গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।’
উপাচার্য আরও বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ডরমিটরি, জীববিজ্ঞান স্কুলের ফিল্ড ল্যাব, ইনোভেশন হাবের যথাযথ ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক কারিকুলাম তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানেরা প্রকল্পগুলোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে খুবির শিক্ষা, গবেষণা ও আবাসন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
Leave a comment