চোর-লুটেরা পালায়, সৎ মানুষ পালায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘দোষী পালায়, অপরাধী পালায়, চোর পালায়, লুটেরা পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না। সৎ মানুষ দেশে থাকে।’
দেশে দুর্নীতির মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিতে লাগাম টানা না গেলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না।’ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সংকটের কারণে কোনো কোনো শিল্পকারখানার উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে এসেছে। উৎপাদন আরও কমতে থাকলে মালিকদের জন্য ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রয়োজনে অন্য খাত থেকে কাটছাঁট করে শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইলে ভারতকেও সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত শুধু খুনিদের আশ্রয়ই দিচ্ছে না, তাদের রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগও দিচ্ছে।
সামনে পানি চুক্তি নবায়নের সময় আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকেই শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। ‘এখানে আলোচনা হবে, লড়াই হবে সমানে সমান,’ বলেন তিনি।
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি যদি সত্যিই দেশের জনগণকে ভালোবাসতেন, তাহলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতেন না। অপরাধ করলে অপরাধের শাস্তি নেওয়া এবং অপরাধ না করলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার আহ্বান জানান তিনি।
Leave a comment