অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন এক বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে হাসপাতালের শয্যায় বসে জমি-সংক্রান্ত একটি দলিলে স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় নিয়েও বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি শয্যায় বসে আছেন এক বৃদ্ধ। তাঁকে শারীরিকভাবে দুর্বল দেখাচ্ছিল। এ সময় পাশে থাকা এক নারী জমি-সংক্রান্ত একটি কাগজে তাঁর স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
ভিডিও ধারণকারী নারী বৃদ্ধের মেয়েকে হাসপাতালে দলিল নিয়ে আসার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথোপকথন হয়। ভিডিওতে বৃদ্ধের মেয়েকে ভিডিও ধারণকারী নারীকে সেখান থেকে চলে যেতে বলতেও শোনা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করা হয়, ভিডিওতে থাকা নারী ডা. ফারিয়া আঞ্জুমান হোসেন। এসব পোস্টে তাঁকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা হিসেবে এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ও এফসিপিএস (গাইনি অ্যান্ড অবস) উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় এবং এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডা. ফারিয়া আঞ্জুমান হোসেন মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন বা আছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আফ্রজা বেগম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে তিনি রোগী দেখেন বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় ও ঘটনার বিষয়ে জানতে আফ্রজা বেগম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মী প্রথমে কথা বলেন। পরে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে তিনি ফোনটি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে দেন।
প্রতিষ্ঠানটির ওই কর্মকর্তা জানান, ডা. ফারিয়া আঞ্জুমান হোসেন সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে। এ কারণে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ঘটনাটিকে অনৈতিক ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেন। বিশেষ করে অসুস্থ একজন ব্যক্তির কাছ থেকে হাসপাতালের শয্যায় বসে সম্পত্তি-সংক্রান্ত দলিলে স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, দলিলটির প্রকৃতি, স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা আইনগত বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
Leave a comment