সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্তে নতুন করে উঠে এসেছে সাবেক গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসানের নাম। একটি গুমের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণের মাধ্যমে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্ভাব্য যোগসূত্রের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে, ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জিয়াউল আহসান এক সেনা সার্জেন্টকে ডেকে পাঠান। ওই সময় তিনি সার্জেন্টকে সতর্ক করে বলেন, ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে বড় কিছু ঘটতে পারে। প্রস্তুত থাকুন।’
তদন্তকারীদের দাবি, একই দিনে ওই সার্জেন্টকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি ডিস্ক সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সার্জেন্ট ওই দুটি ডিস্ক সংগ্রহ করেন। জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই দুটি ডিস্কে এমন কোনো তথ্য ছিল কি না, যা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
রোববার প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামও জানিয়েছেন, একটি পৃথক গুমের মামলার তদন্তে সিডিআর পর্যালোচনা করতে গিয়ে একজন ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তিনি ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি। পাওয়া তথ্য গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তাদের দুটি ল্যাপটপ ও সাগরের মোবাইল ফোন নিখোঁজ হয়। তবে রুনির মোবাইল ফোন ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালংকার বাসায়ই ছিল।
হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এবং পরে র্যাব মামলাটির তদন্ত করে। বর্তমানে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।
দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হয়নি। গত ২৭ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা ১২৯তমবারের মতো বাড়ানো হয়েছে।
তদন্তে নতুন এই সূত্র সামনে আসায় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। তবে জিয়াউল আহসান বা রোকেয়া প্রাচীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি; তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Leave a comment