যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক স্বজনের নিথর দেহ উদ্ধার হলেও গাজাবাসীর সামনে এখন দেখা দিয়েছে নতুন এক মর্মান্তিক সংকট—মৃত প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানানোর মতো দাফনের কোনো জায়গা আর অবশিষ্ট নেই। টানা হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞে গাজার প্রায় প্রতিটি কবরস্থানই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে, যার ওপর বহু পুরোনো সমাধিস্থলও বোমাবর্ষণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।
বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জেইতুন এলাকার বাসিন্দা ওমর আল-সাওহি জানান, সম্প্রতি নিহত তাঁর বাবা মোহাম্মদ আল-সাওহির দাফনের জন্য কবরস্থানে কোনো জায়গা পাননি তারা। স্থানসংকট ও আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বাধ্য হয়ে বহু পুরোনো দাদার কবরের ভেতরেই বাবাকে দাফন করতে হয়েছে। স্থানাভাবব এতটাই প্রকট যে, বহু কবরের ওপর শুধু একটি পাথর ও কাগজে নাম লিখে রাখা হচ্ছে। উপযুক্ত
ধর্মীয় নিয়ম মেনে একক দাফন প্রক্রিয়া সম্পাদন করা এখন অবরুদ্ধ গাজায় একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।দীর্ঘদিনের অব্যাহত বিমান হামলায় গাজায় স্বাভাবিক দাফন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বহু মরদেহ দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকায় তীব্র পচন ধরছে। বাধ্য হয়ে স্বজনেরা নিজেদের বাড়ির আঙিনা, অস্থায়ী তাঁবু, বাস্তুচ্যুত ক্যাম্প, স্কুল এমনকি হাসপাতালের চত্বরে অস্থায়ীভাবে স্বজনদের দাফন করছেন।
গত ৪ আগস্ট গাজা সিটিতে বিমান হামলায় আড়াই বছর ধরে আটকে থাকা ১১২ জনের মরদেহ একযোগে গণকবর দেওয়া হয়। একইভাবে ২০ আগস্ট আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্স চত্বরে আরও ৫০টি উদ্ধারকৃত মরদেহ গণকবর দেওয়া হয়েছে।
মৃত স্বজনকে পূর্ণ মর্যাদায় দাফন করা যেকোনো পরিবারের জন্যই ধর্মীয় ও মানসিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তবে অব্যাহত যুদ্ধ গাজাবাসীর কাছ থেকে শেষ বিদায় জানানোর ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও হাসপাতালের পাশাপাশি গাজার উপচে পড়া কবরস্থানগুলো এখন পুরো উপত্যকার চরমতম মানবিক বিপর্যয়ের চূড়ান্ত সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a comment