রাজধানীর একাধিক নামিদামি ও বিশেষায়িত হাসপাতালে রাতভর ঘুরেও ছোট্ট একটি পিআইসিইউ (শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) শয্যা মেলেনি। চিকিৎসা পাওয়ার আকুল আকুতি আর স্বজনদের অবিরাম চেষ্টার পরও শেষ রক্ষা হলো না ৬ মাস বয়সী শিশু আফিয়ার। হাম ও নিউমোনিয়ায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত শিশুটি চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অবশেষে ফরিদপুরে নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে।
গত রবিবার (৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরে শিশু আফিয়া মারা যায় বলে জানান তার চাচা জুনায়েদ শেখ। জানা গেছে, প্রায় ১৭ দিন আগে হামের উপসর্গ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে শিশু আফিয়াকে প্রথম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৪ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে জরুরি অক্সিজেন ও পিআইসিইউ সাপোর্টের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফরিদপুর থেকে শুক্রবার রাতে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হলেও শুরু হয় এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া।
ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ঘুরেও মেলেনি একটিও খালি পিআইসিইউ শয্যা। কোথাও শয্যা সংকট, কোথাও আইসোলেশন ব্যবস্থার অভাব, আবার কোথাও জনবল সংকটের কারণে শিশুটিকে ভর্তি নেওয়া সম্ভব হয়নি। বেসরকারি হাসপাতালের চড়া খরচ বহন করার সামর্থ্য না থাকায় অগত্যা কোনো চিকিৎসা ছাড়াই নিরাশ হয়ে শিশুটিকে নিয়ে ফরিদপুর ফিরে যেতে বাধ্য হন স্বজনেরা। রবিবার আবারও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যার খোঁজে আকুতি জানানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আফিয়ার চাচা বলেন, “প্রাইভেট কয়েকটা হাসপাতালে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু দৈনিক আইসিইউর যে ভাড়া চেয়েছে তা আমাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। এ দেশে সাধারণ মানুষের কোনো চিকিৎসা নেই, সব সুবিধা শুধু ধনীদের জন্য।” এ ঘটনাটি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের তীব্র সংকট ও অব্যবস্থাপনাকে আবারও চরমভাবে উন্মোচিত করেছে।
Leave a comment