কেন্দ্রীয় রাজনীতির সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং তৃণমূলের রক্তক্ষয়ী রাজনীতির বৈপরীত্য তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেছেন ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-র সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘রাতে ওনারা ক্ষমতার টেবিলে পাশাপাশি বসেন, ফোনে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেন; আর মাঝখানে চোখ হারায় আলিফের মতো মাঠের কর্মীরা।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ঐ পোস্টে ডা. তাসনিম জারা দুটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দৃশ্যের অবতারণা করেন। প্রথম দৃশ্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে মঞ্চে নিজের পাশে বসিয়েছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় দৃশ্যে, একটি অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ নাম ধরে ডেকে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে মঞ্চে তুলে আনেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে বলেন। কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের এই পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সৌজন্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মঞ্চে সৌজন্যের কোনো কমতি না থাকলেও তা তৃণমূলের মাঠে পৌঁছায় না।
এই পটভূমিতে হবিগঞ্জের ১৮ বছর বয়সী তরুণ আলিফের মর্মান্তিক পরিণতি তুলে ধরেন ডা. জারা। তিনি জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক হানাহানির শিকার হয়ে ছেলেটি চিরতরে তার বাম চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রের এই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌজন্য যদি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নামত, তবে কি আলিফকে এভাবে চোখ হারাতে হতো?
ডা. তাসনিম জারা আক্ষেপ প্রকাশ করে লেখেন, শীর্ষ নেতাদের থেকে মাঠে এসে পৌঁছায় শুধু ঘৃণা, হুংকার আর দেখে নেওয়ার হুমকি। মঞ্চ থেকে ছোঁড়া সেই উসকানিমূলক বার্তার জেরে কর্মী-সমর্থকেরা লাঠি, রড ও ইট নিয়ে সংঘাত জড়িয়ে পড়ে। নেতাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, আর কারও চোখ কিংবা জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগেই কেন্দ্রের এই রাজনৈতিক সৌজন্য মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ুক—যাতে তা আলিফের মতো আর কোনো কর্মীকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে না হয়।
Leave a comment