রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতার ওপর অতর্কিত ও সশস্ত্র হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে এই আকস্মিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। হামলায় ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসাসেবা চলছে।
ক্যাম্পাস ও ভুক্তভোগী সংগঠনের প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি স্মরণসভার প্রস্তুতি চলছিল। এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন গণমাধ্যমকে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও বিশেষ আলোচনা সভার জন্য কলেজের গ্যালারি-২ তে সাজসজ্জার কাজ চলছিল। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মী অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই ডেকোরেশনের কাজ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশাররফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল সেখানে প্রবেশ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়।
ছাত্রশিবির নেতা মামুন আরও অভিযোগ করেন, অতর্কিত এই হামলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। তাদের বেধড়ক ও নির্মম মারধরে আব্দুল মালেকের মাথায় গুরুতর জখম হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পপুলার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, এই হামলার ঘটনার পর দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে লাঠিসোঁটা হাতে একটি বিশাল মহড়া ও মিছিল বের করেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও ফটকে তারা সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের আরেক সক্রিয় সদস্য ফজলুল হক ফরহাদকেও মারধর করে আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এই উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
ক্যাম্পাসে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত, অস্থিতিশীল ও সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও কলেজ প্রশাসনের দৃশ্যমান নীরবতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সার্বিক পরিস্থিতি ও হামলার বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস এবং উপাধ্যক্ষ আনোয়ার মাহমুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। ফলে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা পদক্ষেপের কথা জানা সম্ভব হয়নি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো একটি জাতীয় ও আবেগের জায়গাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ধরনের হামলা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের চিহ্নিতপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a comment