ভারতের কেরালা রাজ্যে এক মুসলিম তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিজের শয়নকক্ষ থেকে শেহানা (৩১) নামের ওই তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শেহানার অমুসলিম পুরুষ বন্ধু অরুণ কুমারকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সময় অরুণ ঘরের ভেতরেই উপস্থিত ছিল এবং তার হাত ও শরীরে টাটকা রক্তের দাগ দেখা গেছে বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে কেরালার আদুরের কোট্টামুকাল এলাকায়। স্থানীয় পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৩১ বছর বয়সী শেহানা তাঁর স্বামীর থেকে আলাদা থাকতেন এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি এঝুকুলামের বাসিন্দা অরুণ কুমারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সামাজিক ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। সোমবার সন্ধ্যায় শেহানার ঘর থেকে আকস্মিক চিৎকার, ধস্তাধস্তি ও তুমুল ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পান প্রতিবেশীরা।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজমাল জানান, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে ঘরের ভেতর শেহানার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান, যার নাক দিয়ে তাজা রক্ত ঝরছিল। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা অরুণের হাত ও শরীরে রক্তের দাগ লেগেছিল। ঘরের ভেতরের ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর পূর্বে শেহানাকে নৃশংসভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক অরুণ কুমার স্বীকার করেছে যে, একটি মোবাইল ফোনের ছবিকে কেন্দ্র করে ঘটনার রাতে তাঁদের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল। একপর্যায়ে সে ক্ষিপ্ত হয়ে শেহানাকে চড় মারে এবং গলা টিপে ধরে। তবে তার দাবি, মারধরের পর সে অন্য ঘরে চলে গেলে শেহানা অভিমানে আত্মহত্যা করেন।
শেহানার পরিবার ও স্বজনরা অরুণের এই আত্মহত্যার দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং অরুণই শেহানাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে দিয়েছে। আদুর থানার স্টেশন হাউস অফিসার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ঝুলন্ত মৃত্যুর কথা বলা হলেও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং অরুণের মারধরের স্বীকারোক্তিকে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যার প্ররোচনা—তা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করতে ফরেনসিক দল কাজ করছে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Leave a comment