পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় প্রতিবেশীর বাড়িতে ডেকে নিয়ে বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই জঘন্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে গ্রেপ্তার করেছে বোদা থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশু দুটি পরস্পরের প্রতিবেশী এবং তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই শিশু অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামকে সম্পর্কে ‘দাদু’ বলে ডাকত। সেই সুবাদে তারা মাঝেমধ্যে ওই ব্যক্তির বাড়িতে খেলতে যেত। ঘটনার দিনগুলোতে বাড়িতে পরিবারের অন্য কোনো সদস্য না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে বিস্কুট খাওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশুদের নিজের শয়নকক্ষে ডেকে নিয়ে যেত। সেখানে তাদের জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর শিশুদের ভয় দেখিয়ে বলা হতো যেন তারা কান্নাকাটি না করে এবং পরিবারের কাউকে কিছু না জানায়; অন্যথায় তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার ও শনিবার ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে এবং সর্বশেষ রোববার একইভাবে পাঁচ বছর বয়সী অন্য শিশুটিকেও ওই ব্যক্তি ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী এক শিশুর পরিবার জানায়, শিশু দুটিকে অস্বাভাবিকভাবে কান্নাকাটি করতে দেখে তারা কারণ জিজ্ঞাসা করেন। প্রথমে ছয় বছর বয়সী শিশুটি প্রচণ্ড ভয়ে কিছু বলতে না পেরে কেবল কাঁদছিল। পরবর্তীতে পাঁচ বছর বয়সী অপর শিশুটি তীব্র শারীরিক ব্যথার কথা জানিয়ে পুরো ঘটনাটি পরিবারের কাছে খুলে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাছুদ হাসান জানান, গত রাতে দুই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষার সময় তাদের শরীরে জঘন্য নির্যাতনের স্পষ্ট আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং শিশু দুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাতেই দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. আমিনুল ইসলামকে আটক করতে সক্ষম হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় থানায় দুটি পৃথক মামলার এজাহার দায়ের করা হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় আদালতে পাঠানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
Leave a comment