মো. ইয়াছিন সরকার, কুমিল্লা
কুমিল্লার মুরাদনগরের মুরাদনগর ডি.আর. সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও কর্মচারীসংকট চলছে। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকসহ একাধিক পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই। এ ছাড়া গণিত বিষয়ের দুটি পদের বিপরীতে রয়েছেন একজন শিক্ষক। ইংরেজি ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের ক্ষেত্রেও দুটি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন একজন করে শিক্ষক।
শুধু শিক্ষক নয়, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, পিয়ন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নৈশপ্রহরীর পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, দাপ্তরিক কাজ এবং বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। অস্থায়ী কর্মচারীদের দিয়ে কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের জানালার থাই গ্লাসসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটছে। এতে বিদ্যালয়ের সম্পদ সংরক্ষণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে কোচিং বা ব্যক্তিগত শিক্ষকের ওপর নির্ভর করছে, যা স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, “শিক্ষক ও জনবলসংকটের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক ও জনবলের সংকট রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলে বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ করা হবে, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন শিক্ষকসংকট চলতে থাকলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং ভবিষ্যতে অভিভাবকদের আগ্রহও কমে যেতে পারে।
Leave a comment