সিলেটের ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সামুন মাহমুদ খানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও শুভানুধ্যায়ীরা।
তাঁদের দাবি, বর্তমানে সামুন মাহমুদ খান গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর শরীরে জরুরি ভিত্তিতে একটি পেসমেকার প্রতিস্থাপন (রিপ্লেসমেন্ট) করা হয়েছে। এ অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রচার করাকে অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন তাঁরা।
ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর থেকে সামুন মাহমুদ খান কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। পারিবারিক সূত্রে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেও তিনি কোনো আর্থিক, প্রশাসনিক বা নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করেননি।
তাঁরা আরও বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ শরিফ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম, সম্পত্তি বণ্টন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামুন মাহমুদ খানের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগেরও কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
ঘনিষ্ঠজনদের মতে, সামুন মাহমুদ খান দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের ব্যবসা, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান রেখে আসছেন। ১৯৮৪ সালে তিনি ‘সামুন টেক্সটাইল (প্রা.) লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁদের দাবি, যাচাই-বাছাই ছাড়া একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ এবং তথ্য যাচাই করে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ১৯৯৭ সালে সামুন মাহমুদ খান ‘জেস মটরস লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উদ্যোগে বৃহত্তর সিলেটে প্রায় ১১ হাজার সিএনজি অটোরিকশা বাজারজাত করা হয়, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি সিলেট টেনিস ক্লাব ও সিলেট লায়ন্স ক্লাবের সাবেক সহসভাপতি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের আজীবন পৃষ্ঠপোষক এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
Leave a comment