ঝিনাইদহে বজ্রপাতে এক নারীসহ দুজনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা থেকে জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- আসাদুল ইসলাম (৪৫) ও আন্না খাতুন। তাদের মধ্যে আসাদুল ইসলাম মায়াধরপুর গ্রামে শ্রমীক হিসাবে ধান কাটার কাজ করছিল এবং আন্না খাতুন শৌলকুপা উপজেলার দামুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, নিহত আসাদুল ইসলাম ফরিদপুরের কানাইপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি কুষ্টিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা। ঘটনার সময় তিনি মায়াধরপুর গ্রামে শ্রমিক হিসাবে ফসলের মাঠে ধান কাটার কাজ করছিল। বজ্রপাতে অপর মৃত নারী আন্না খাতুন শৈলকূপার দামুকদিয়া গ্রামের আনিসুর রহমানের স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকেল ৫টার দিকে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। তখন মাঠে ধান কাটা ও বাঁধার কাজ করছিলেন কৃষকরা। এ সময় বজ্রপাতে দুই কৃষক আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক কৃষক আসাদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত অপর কৃষক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময় বজ্রপাতে সদর উপজেলার ধোপাঘাটা গোবিন্দপুর, দোগাছি গ্রামে বজ্রপাতে আরও তিন নারী আহত হয়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নামপরিচয় পাওয়া যায়নি।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডা. ফারিহা তাহসিন বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই কৃষকের মৃত্যু হয়।
এদিকে শৈলকূপার মনোহরপুর ইউনিয়নের আন্না খাতুন বৃষ্টিপাত শুরু হলে আম কুড়াতে বাইরে গেলে বজ্রপাতে আক্রান্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, বজ্রপাতে আক্রান্ত নারী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন। বজ্রপাতে আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, বজ্রপাতে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিস্তারিত জানার পরে ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকজন বজ্রপাতে আহত হয়েছেন বলে খবর পেয়েছি।
Leave a comment