গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ছোট-বড় অনেক গাছপালা উপড়ে পড়াসহ স্কুল, দোকানপাট ও বেশকিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও ভেঙে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। ফলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রোববার (১৭ মে) রাত আড়াইটার দিকে শুরু হয়ে ভোর ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা কালবৈশাখী ঝড়ের এই তাণ্ডবে পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পৌরশহরের মীরগঞ্জ বাজারে থাকা বিশাল আকারের বটগাছ হেলে গেছে। এর বড় ডালপালা ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০-১২টি দোকানঘর। এ ছাড়া পুরোনো বটগাছ পড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষসহ ৪টি ক্লাসরুম।
ঝড়ের সঙ্গে অতি ভারী বর্ষণ হওয়ায় তলিয়ে গেছে কৃষকের অবশিষ্ট পাকাধানসহ বিভিন্ন পাটক্ষেত। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন বেশকিছু কৃষক। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ঝড়ে সুন্দরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পবিস। এর মধ্যে খুঁটি ভেঙেছে ১২টি, খুঁটি হেলে পড়েছে ৬টি। তার ছিঁড়ে পড়েছে প্রায় ৩০টি স্পটে। গাছ ভেঙে পড়েছে শতাধিক স্পটে এবং ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে ৬টি। সুন্দরগঞ্জ পবিসসহ অন্যান্য অফিসের মোট ২১টি টিম কাজ করছে।
ইতোমধ্যে জোনাল ম্যানেজারের নির্দেশনায় টেকনিক্যাল টিমও যোগ দিয়েছেন তাদের সঙ্গে। বৈদ্যুতিক খুঁটিও আনা হয়েছে সদর দপ্তর থেকে। যেহেতু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক, তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে যথেষ্ট সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ পবিসের ডিজিএম মো. আব্দুল বারী।
Leave a comment