মন্ত্রিসভায় একের পর এক বিদ্রোহ, জ্যেষ্ঠ নেতাদের অসন্তোষ এবং দলীয় অস্থিরতার মুখে অবশেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন, ক্ষমতা আঁকড়ে না রেখে মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিতে চান এবং শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের কলাম লেখক ড্যান হজেসের বরাতে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার এক সদস্য বলেছেন, “স্টারমার রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পারছেন। তিনি মনে করছেন, চলমান বিশৃঙ্খলা আর দীর্ঘায়িত করা ঠিক হবে না।”
তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। স্টারমারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী তাঁকে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের জরিপ প্রকাশের আগে মুখ না খোলার পরামর্শ দিলেও প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকেরা বলছেন, তিনি ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে চান না। কারণ, উপনির্বাচনের পর ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিজয়ী হলে সেটি স্টারমারের ওপর চাপ হিসেবে দেখা হতে পারে।
স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায়ের খবরে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণও পাল্টে যেতে পারে। বার্নহ্যাম শিবির চাইছিল, নির্বাচনের আগে স্টারমার যেন পদত্যাগ না করেন। এতে তাঁরা ভোটারদের সামনে ‘স্টারমারকে সরানোর’ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে পারতেন।
গত সোমবার কয়েকজন জুনিয়র মন্ত্রীর একযোগে পদত্যাগের পর থেকেই ডাউনিং স্ট্রিটে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রবীণ মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন স্টারমার। কিন্তু সেই সময়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়।
স্টারমারের এক সহযোগী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তখন আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “আমি সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার চেষ্টা করছি, আর তারা পেছন থেকে আঘাত করছে।”
পরদিন সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোন্সকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হলেও শেষ মুহূর্তে অবস্থান বদলে জানানো হয়, সরকার এখনই পদ ছাড়ছে না এবং লড়াই চালিয়ে যাবে।
তবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের অর্জনের কৃতিত্ব নিজের নামে তুলে ধরেন। তিনি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে উল্লেখ না করায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এটিকে স্টারমারের থেকে দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে খবর আসে, জশ সাইমন্স তাঁর আসন ছাড়তে যাচ্ছেন, যাতে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের পার্লামেন্টে ফেরার পথ সহজ হয়।
ডাউনিং স্ট্রিট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বার্নহ্যামের প্রার্থিতা ঠেকানোর চেষ্টা চালালেও ডেপুটি লিডার লুসি পাওয়েলের উদ্যোগে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে স্টারমারের টিম কার্যত অন্ধকারে ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
দলীয় সংকট, মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধে চাপে পড়ে এখন স্টারমারও বুঝতে পারছেন, রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাঁর ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি এখন সম্মানজনক বিদায়কেই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে দেখছেন।
Leave a comment