রাজধানীর সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সমকামিতার অভিযোগে চার শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এক বহিরাগতসহ পাঁচজনকে পুলিশে সোপর্দ করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কলেজ শাখা ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতা রয়েছেন।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—বিএএএমএস (আয়ুর্বেদিক) ৩৩ ব্যাচের আহসানুল ইসলাম চৌধুরী, ৩৪ ব্যাচের মহিবুর রহমান নয়ন ও রাব্বি হোসেন ওরফে আরিয়ান শাহ রাব্বি এবং বিইউএমএস (ইউনানী) ৩৫ ব্যাচের শাহরিয়ার পলক। এদের মধ্যে আরিয়ান শাহ রাব্বি ও মহিবুর রহমান নয়ন কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।
গত ২২ এপ্রিল রাতে কলেজের মসজিদের গলি থেকে শাহরিয়ার পলককে এক বহিরাগতের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ক্যাম্পাসের আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের কাফরুল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ২৩ এপ্রিল জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় তাদের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোস্টেল সুপার ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মকছেদ আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে।
কলেজের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে অন্তত ৪০টি সমকামী গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা হোস্টেলের অন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রলুব্ধ করত। তল্লাশি চালিয়ে আরিয়ান রাব্বির কক্ষ থেকে যৌনচর্চায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী এবং হোস্টেলের অন্য শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি উদ্ধার করা হয়েছে, যা তারা বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করত। এছাড়া আটককৃতদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার এবং স্বাস্থ্যগত জটিলতা লুকানোর তথ্যও পাওয়া গেছে।
সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে একাডেমিক কাউন্সিল তাদের হোস্টেলের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছিল, যার মেয়াদ ইতিমেধ্য শেষ হয়েছে।” তবে সিট বাতিল করা হলেও অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বর্তমানে বহাল রয়েছে বলে তিনি জানান।
Leave a comment