বৃষ্টিভেজা শীতল এক সকালে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল–এর উত্তর-পশ্চিমের একটি পাহাড়ি কবরস্থানে ছোট ভাই মিরওয়াইসের কবর খুঁজতে যান মাসুদা নামের এক নারী। কিন্তু দুই মাস আগে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর ঠিক কোথায় তাঁকে দাফন করা হয়েছে, তা জানেন না তিনি।
শেষ পর্যন্ত তিনি দাঁড়ান একটি গণকবরের পাশে। ছোট ছোট সাদা পাথর ও ধূসর গ্রানাইট ফলকে চিহ্নিত সেই কবরেই শায়িত আছেন হামলায় নিহত হওয়া বহু মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ওমিদ ড্রাগ রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতাল–এ চালানো ওই হামলায় অন্তত ২৬৯ জন নিহত হয়েছেন।
২৪ বছর বয়সী মিরওয়াইসের মরদেহও প্রায় চেনার উপায় ছিল না। মাসুদা বলেন, “আমার ভাইয়ের শরীর টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। খুব সামান্য অংশই আমরা পেয়েছিলাম। শুধু জন্মদাগ দেখে আমি তাকে শনাক্ত করি।”
জাতিসংঘের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার নিশ্চিত করা হয়েছে, হামলায় অন্তত ২৬৯ জন নিহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি। এমনকি তালেবান, ন্যাটো ও আফগান সরকারি বাহিনীর দীর্ঘ ২০ বছরের সংঘাতকালেও এত প্রাণঘাতী হামলার নজির খুব কম।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে এটিকে সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a comment