যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’ (Reform UK)-এর এক প্রার্থীর চরমপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের সোলিহাল (Solihull) এলাকার প্রার্থী ফিল টায়ারনি (Phil Tierney) নিজেকে ‘ইসলামোফোবিক’ হিসেবে দাবি করার পাশাপাশি মুসলিমদের ভোটাধিকার ও উচ্চপদে আসীন হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘X’-এ প্রকাশিত একাধিক পোস্টে টায়ারনি ইসলাম ধর্মকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একটি পোস্টে তিনি সরাসরি লেখেন, “আমি ইসলামোফোবিক।” এছাড়াও তিনি এমন একটি ছবি শেয়ার করেন যেখানে দাবি করা হয়—কোনো মুসলিম বা কমিউনিস্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় কোনো পদে বসতে দেওয়া উচিত নয়। যুক্তরাজ্যের সব মসজিদ বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষেও মত দেন এই প্রার্থী।
কট্টর ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন (যিনি টমি রবিনসন নামে পরিচিত) এর প্রতিও তিনি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন। রবিনসনকে ‘স্যার টমি’ সম্বোধন করে টায়ারনি তাকে ব্রিটেনের রাজার কাছে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করতে বাকিংহাম প্যালেসের সামনে সমাবেশ করার অনুরোধ জানান।
এই ঘটনা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে-এর জন্য চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত সপ্তাহেই দলের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইসের সাথে ফিল টায়ারনিকে নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা গিয়েছিল।
কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরাক এই মন্তব্যগুলোকে “ভয়াবহ ও বর্ণবাদী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “জনগণ প্রশ্ন তুলছে যে, এ ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করা একজন ব্যক্তিকে কীভাবে একটি দল নির্বাচনের জন্য মনোনীত করতে পারে।” তিনি অবিলম্বে টায়ারনিকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।
দলের পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, রিফর্ম ইউকে দলের একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে এর আগেও বর্ণবাদ ও চরমপন্থী আচরণের অভিযোগ উঠেছে। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে এ ধরনের কেলেঙ্কারির কারণে পদত্যাগ করতে বা সরিয়ে দিতে হয়েছে।
ফিল টায়ারনি এই সংবাদ প্রকাশের পর গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
Leave a comment