ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আন্দিশেহ শহরের ‘আরঘাভান শপিং সেন্টারে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবারের (৪ মে) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দগ্ধ ও আহত অবস্থায় অন্তত ৩৬ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইরানের বিচার বিভাগীয় মুখপত্র ‘মিজান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শপিং কমপ্লেক্সটির বহির্ভাগে ব্যবহৃত ক্ল্যাডিং (cladding) অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি ছিল। ফলে আগুন লাগার পর তা মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) কর্তৃক প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বিশাল এই বাণিজ্যিক ভবনটি আগুনের লেলিহান শিখায় পুরোপুরি গ্রাস হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা কয়েক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এই প্রাণঘাতী ঘটনার পর ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বেতার আইআরআইবি (IRIB) জানিয়েছে, ভবনের মূল ডেভেলপার এবং এই অবহেলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভবনের নির্মাণে জাতীয় নিরাপত্তা আইন ও অগ্নি-নির্বাপক নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের ভেতরে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারকৃতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তবে শোকাতুর পরিবারগুলোর অভিযোগ, ভবনটিতে পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমন পথ এবং অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না।
উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে অনিরাপদ ক্ল্যাডিং ব্যবহারের কারণে বেশ কিছু বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তেহরানের এই দুর্ঘটনাটি পুনরায় নগর উন্নয়ন ও ভবন নির্মাণে কঠোর নিরাপত্তা বিধি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
Leave a comment