হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের নৌ-অবরোধে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচল স্বাভাবিক করতে ওয়াশিংটন যে বিশেষ সামরিক উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ গ্রহণ করেছিল, তা আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটায় নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের বিশেষ অনুরোধ এবং ইরানের সাথে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি জানান, ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত’ চুক্তির লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই সম্ভাব্য চুক্তিটি স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করার স্বার্থেই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও অন্যান্য অবরোধগুলো এখনও পূর্ণমাত্রায় কার্যকর রয়েছে।
পেন্টাগনের ভাষ্যমতে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক সামরিক মিশন। এর লক্ষ্য ছিল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং ইরানের আধিপত্য রোধ করা।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর অবরোধ আরোপ করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়াশিংটন ওমান সাগরে নৌ-অবরোধ জারি করলে পরিস্থিতি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। এই অচলাবস্থা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ চালুর পরিকল্পনা করেছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই স্থগিতাদেশ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্ভাব্য বড় সংঘাত এড়ানোর প্রচেষ্টা। পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকা এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a comment