জার্মানির স্যাক্সনি অঙ্গরাজ্যের ঐতিহাসিক শহর লাইপজিগে (Leipzig) একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) স্থানীয় সময় বিকেলে একটি দ্রুতগতির গাড়ি জনাকীর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়লে এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লাইপজিগের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনবহুল অগাস্টুসপ্লাৎজ এলাকা থেকে একটি গাড়ি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গ্রিমাইশে স্ট্রাসে সড়কে ঢুকে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই সরাসরি মানুষের ভিড়ের ওপর দিয়ে গাড়িটি চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রসিকিউটর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই নৃশংস ঘটনায় নিহত দুজনই জার্মানির নাগরিক। তাঁদের মধ্যে একজন ৬৩ বছর বয়সী নারী এবং অন্যজন ৭৭ বছর বয়সী বৃদ্ধ। অন্যদিকে, লাইপজিগ ফায়ার সার্ভিসের প্রধান অ্যাক্সেল শুহ জানিয়েছেন, আহত ২২ জনের মধ্যে অন্তত ২ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
শহরের মেয়র বুর্খার্ড জুং জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই গাড়িচালককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তি ৩৩ বছর বয়সী একজন জার্মান নাগরিক। স্যাক্সনি অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মিখায়েল ক্রেটশমার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তির মানসিক অসুস্থতার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ও প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত এই হামলার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
লাইপজিগ পুলিশের মুখপাত্র সুসানে লুবকে গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে জননিরাপত্তার জন্য নতুন কোনো হুমকির সম্ভাবনা নেই। পুলিশ বিষয়টিকে একজন ব্যক্তির ‘সহিংস তাণ্ডব’ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ফরেনসিক দল তথ্য সংগ্রহ করছে। শোকাতুর লাইপজিগবাসী নিহিতদের স্মরণে দুর্ঘটনাস্থলে মোমবাতি ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
Leave a comment