মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক সামরিক অভিযানের ঘোষণার পাল্টা জবাবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা মার্কিন যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং কোনো বিদেশি শক্তির প্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।
সোমবার দুপুরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের এই নতুন সামরিক উদ্যোগকে ‘অবৈধ’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘মেহর’-এর বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির একমাত্র অভিভাবক এবং রক্ষক। বিশ্বের সকল জাহাজ ও শিপিং কোম্পানি ভালো করেই জানে যে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম একমাত্র কর্তৃপক্ষ হলো ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান। তাই এই জলসীমায় যেকোনো চলাচলের জন্য ইরানের সাথে সমন্বয় করা অপরিহার্য।”
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড থেকে আরও সরাসরি হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী’ যদি ইরানের জলসীমা বা প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর সরাসরি হামলা চালানো হবে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সমন্বয় ছাড়া কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনীর প্রবেশকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য করা হবে।
ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী, আজ সোমবার সকাল থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর জাহাজ উদ্ধারের এই মিশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় প্রায় ১৫ হাজার সেনা ও শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের কথা উল্লেখ রয়েছে, যাকে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলার’ ঘোষণা পুরো পরিস্থিতিকে একটি বড় মাপের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশঙ্কা করছে যে, দুই শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত করার পাশাপাশি একটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। ইসমাইল বাঘাই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ অনুসরণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a comment