শিশুখাদ্যে প্রাণঘাতী বিষ মিশিয়ে একটি বহুজাতিক কোম্পানিকে ব্ল্যাকমেইল করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অস্ট্রিয়ায় ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত মাসে নামী ওই ব্র্যান্ডের খাবারে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক তদন্ত শেষে আজ রবিবার (৩ মে) তাকে আটক করে পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক জৈব শিশুখাদ্য (Organic Baby Food) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘হিপ’ (HiPP) জানায়, এটি কোনো যান্ত্রিক বা উৎপাদনজনিত ত্রুটি নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ‘ক্রিমিনাল অ্যাক্ট’। অপরাধীরা কোম্পানিটির কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে পণ্যে বিষ মিশিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে। ব্ল্যাকমেইলাররা অর্থ দাবি করে যোগাযোগ করার পরেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্লোভাকিয়ার বাজার থেকে তাদের নির্দিষ্ট কিছু পণ্য (জার ফুড) সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, বিক্রয়কেন্দ্রে থাকা জারের খাবারে ইঁদুরের বিষ এবং একটি অজ্ঞাত বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি ছিল।
অস্ট্রিয়ার বার্গেনল্যান্ড প্রদেশের পুলিশ মুখপাত্র হেলমুট মারবান জানান, তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিচয় আপাতত গোপন রাখা হচ্ছে। তবে বিষাক্ত পণ্য শনাক্তে জনসাধারণকে বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যেসব পণ্যে সাদা স্টিকারের ওপর লাল বৃত্ত রয়েছে, ঢাকনা ক্ষতিগ্রস্ত বা যেখান থেকে অস্বাভাবিক গন্ধ বের হচ্ছে—সেগুলো যেন এড়িয়ে চলা হয়।
অস্ট্রিয়ান এজেন্সি ফর হেলথ অ্যান্ড ফুড সেফটি (AGES) জানিয়েছে, ইঁদুরের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে তা ভিটামিন-এর কার্যকারিতায় বাধা দেয়, যা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। শিশুখাদ্য গ্রহণের দুই থেকে পাঁচ দিন পর সাধারণত বিষক্রিয়ার লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। যদি কোনো শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিক রক্তপাত, চরম দুর্বলতা বা ফ্যাকাশে ভাব দেখা দেয়, তবে বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ইউরোপজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a comment