আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করেই লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো এই হামলায় এক শিশু ও চার নারীসহ অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা অনলাইন’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়ে জেলার হাবুশ গ্রামে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে চালানো হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন নারী এবং একজন শিশু রয়েছে। এই এলাকায় হামলার আগে ইসরাইলি বাহিনীর পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সিদন জেলার জারারিয়ে গ্রামে চালানো অপর এক হামলায় দুই নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন এবং তায়ারের আইন-বাল এলাকায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইসরাইল ও ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বর্তমানে তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা তাদের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হিজবুল্লাহর গতিবিধি লক্ষ্য করে এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা লেবাননের মাটিতে অবস্থানরত ইসরাইলি সেনা ও সামরিক যানবাহন লক্ষ্য করে পাল্টা প্রতিরোধমূলক হামলা চালিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে সংঘর্ষে একজন ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার বিষয়টিও আইডিএফ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যে এমন প্রাণঘাতী হামলা লেবাননের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলার ফলে নারী ও শিশুদের মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
Leave a comment