ভারতের উত্তরপ্রদেশের বেরিল্লিতে মাওলানা তৌসিফ রেজা নামক এক মসজিদের ইমামকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করলেও, নিহতের পরিবারের হাতে আসা একটি অডিও ক্লিপ পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
গত ২৭ এপ্রিল বেরিল্লিতে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। মাওলানা তৌসিফ রেজা ট্রেনে ভ্রমণকালীন সময়ে কিছু ব্যক্তির দ্বারা হেনস্তার শিকার হন। গত শনিবার (২ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, তৌসিফের পরিবার একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে। ওই অডিও ক্লিপে তৌসিফকে অত্যন্ত ভীত ও বিচলিত অবস্থায় তার স্ত্রী তাবাসসুমের সাথে কথা বলতে শোনা যায়।
তৌসিফ তার স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন যে, ট্রেনের ভেতর কিছু লোক তাকে ঘিরে ধরেছে এবং হেনস্তা করছে। তিনি আরও জানান, তাকে মিথ্যা ‘চুরির অপবাদ’ দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। তাবাসসুম তাকে অন্য যাত্রীদের সহায়তা নিতে বললেও তৌসিফ জানান যে, পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং তিনি পুলিশকে জানানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু তার আগেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিহতের চাচা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। বরং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্যাতন করার পর চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার (৩ মে) তারা এই ঘটনায় একটি আনুষ্ঠানিক হত্যা মামলা দায়ের করবেন।
তৌসিফের স্ত্রী তাবাসসুম এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেছেন, পুলিশ প্রথমে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা দাবি করেছিল যে, তৌসিফ তার লাগেজসহ অসাবধানতাবশত ট্রেন থেকে পড়ে মারা গেছেন। কিন্তু কল রেকর্ডটি পুলিশের প্রাথমিক দাবির সত্যতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ইমাম তৌসিফ রেজার এই মৃত্যুতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সঠিক তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে। পুলিশ জানিয়েছে, অডিও ক্লিপটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে এবং নতুন করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
Leave a comment