ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সাতৈর গ্রামে মাত্র ২৫ মাস বয়সী শিশু মুসলিমা ইসলামের জীবনে নেমে এসেছে চরম মানবিক বিপর্যয়। এক হাতে দুধভরা ফিডার, অন্য হাতে দাদির শাড়ির আঁচল—এই ছোট্ট শিশুর চোখে এখন শুধু কান্না আর অনিশ্চয়তা।
মাত্র ২১ দিন বয়সে মাকে হারানো মুসলিমা আবারও বাবাকে হারিয়েছে নির্মম এক ঘটনায়। গত শুক্রবার রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দায় জনতার মারধরে প্রাণ হারান তার বাবা ট্রাকচালক হান্নান শেখ (৪৩)। এ ঘটনায় পুরো পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
শনিবার বিকেলে বাবার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে চারপাশে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। সেই ভিড়ের মাঝেই দাদির কোলে ঘুরছে ছোট্ট মুসলিমা, কখনো ফিডার মুখে নিচ্ছে, আবার হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ছে।
পরিবার জানায়, মুসলিমার জন্মের মাত্র ২১ দিন পর তার মা আরিফা বেগম তাকে রেখে চলে যান। এরপর থেকে দাদা শাহিদ শেখ ও দাদি নার্গিস বেগমই তাকে লালন-পালন করে আসছিলেন। এখন বাবার মৃত্যুর পর শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
নিহতের দাদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, শিশুটির মা আগেই চলে গেছে, এখন বাবাও নেই। শিশুটির দায়িত্ব কে নেবে—এই প্রশ্নে দিশেহারা পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, তাদের ছেলে কোনো অপরাধ না করেও গুজবের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় কয়েকজন আহত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে উত্তেজিত জনতা ট্রাক চালক হান্নান শেখকে নামিয়ে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান।
ঘটনায় ট্রাকের দুই সহকারী আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় কয়েকজনও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুজব ও গণপিটুনিতে প্রাণহানির এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পাশাপাশি ছোট্ট মুসলিমার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Leave a comment