যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় দুই ইহুদি ব্যক্তির ওপর ভয়াবহ ছুরি হামলার ঘটনায় ব্রিটিশ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ব্রিটেনকে এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষ এখন ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে গেছে এবং লন্ডন বর্তমানে ঘৃণ্য অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে।
বুধবার সকালে একটি সিনাগগের কাছে ৭৬ এবং ৩৪ বছর বয়সী দুই ইহুদি ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নৃশংস হামলা চালায় এক আততায়ী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারী প্রথমে এক উগ্র-অর্থোডক্স ইহুদি ব্যক্তিকে তাড়া করে এবং পরবর্তীতে বাসের অপেক্ষায় থাকা অন্য একজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্থানীয় শমরিম নিরাপত্তা দলের সদস্যরা সাহসিকতার সাথে তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন এবং পুলিশ টেজার গান ব্যবহার করে ৪৫ বছর বয়সী ওই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, সোমালি বংশোদ্ভূত ওই ব্রিটিশ নাগরিকের কাছে বিস্ফোরক থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশ দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি শুরু করেছে। বর্তমানে আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, স্টারমার সরকারের কেবল মৌখিক নিন্দা বা সান্ত্বনা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে, ‘হারাকাত আসহাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ নামক একটি ইরানপন্থী গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ‘ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট অ্যান্টিসেমিটিজম’ নামক দাতব্য সংস্থাটি এই পরিস্থিতিকে একটি ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং দাবি করেছে যে, ইরানের মদতে যুক্তরাজ্যে চরমপন্থা ছড়ানো হচ্ছে।
গোল্ডার্স গ্রিনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বিক্ষোভকারীরা কিয়ার স্টারমার সরকারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ইহুদি বিরোধী চরমপন্থা রুখতে পুলিশ ও প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্যার মার্ক রাউলি স্বীকার করেছেন যে, ইহুদি সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি জনবল ও সম্পদের প্রয়োজন।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ইহুদিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এদিকে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা রাজা তৃতীয় চার্লস এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আহতদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে লন্ডনের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক এখনো প্রশমিত হয়নি।
Leave a comment