গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে রওনা হওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ওপর ইসরায়েলি নৌবাহিনীর অভিযানের পর আন্তর্জাতিক জলসীমায় এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বহরের আয়োজকদের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাদের নৌযানগুলোর ইঞ্জিন এবং নেভিগেশন (দিকনির্দেশনা) ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে শতাধিক বেসামরিক যাত্রী নিয়ে মাঝসমুদ্রে অচল হয়ে পড়েছে সহায়তা বহরটি।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি কমান্ডোরা বহরে থাকা নৌযানগুলোর যান্ত্রিক ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়ার পর সেখান থেকে সরে যায়। ফ্লোটিলার অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে এমন এক সময়ে এই নাশকতা চালানো হয়েছে যখন একটি শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় ওই অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছিল। অচল নৌযান এবং দিকনির্দেশনাহীন অবস্থায় এই ঝড় যাত্রীদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
একইসঙ্গে বেশ কয়েকটি জাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্থাও ‘জ্যাম’ বা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে নৌযানগুলো একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না এবং জরুরি কোনো সাহায্য বা এসওএস (SOS) সংকেত পাঠাতেও ব্যর্থ হচ্ছে। মাঝসমুদ্রে আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে নারী, শিশু এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আন্তর্জাতিক জলসীমায় কিছু জাহাজ আটকে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, গাজার নৌ-অবরোধ বজায় রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পরিকল্পিতভাবে নৌযানের ইঞ্জিন বিকল করে দেওয়া কিংবা যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত তেল আবিব আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঝসমুদ্রে আটকা পড়া যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নৌযান বিকল করে দেওয়া এবং সাহায্যের পথ বন্ধ করা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
ধাবমান ঝড়ের কবল থেকে শতাধিক যাত্রীকে উদ্ধার করতে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের খবর পাওয়া যায়নি। সহায়তাকারী সংস্থাগুলো অবিলম্বে এই মানবিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে এবং যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
Leave a comment