বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অপরিসীম ত্যাগ ও অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের হাজার হাজার সৈন্য এ দেশের মাটিতে নিজেদের রক্ত বিসর্জন দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সারা পৃথিবী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের সহযোগিতায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ভারতের হাজার হাজার সৈন্য এই দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের রক্ত দিয়ে গেছেন। ভারত আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশাল ঝুঁকি নিয়েছিল।”
তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের স্বাধীনতার চূড়ান্ত লগ্নে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিয়েছিল। তৎকালীন সেই বিশ্বশক্তির সমর্থন ও ভেটো না থাকলে আমাদের দেশ স্বাধীন হতো কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল।”
আলোচনা চলাকালীন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদার সঙ্গে অন্য কোনো আন্দোলনের তুলনার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক সময়ের এক মাসের গণ-আন্দোলনের সঙ্গে নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের তুলনা করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যখন এক মাসের কোনো আন্দোলনকে তুলনা করা হয়, তখন মূলত আমাদের মুক্তিযুদ্ধকেই ছোট করা হয়।”
এ সময় অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে এই প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য বলেন, “মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার এই প্রবণতা দেখে আমি মনে মনে ভাবি, হয়তো বা আমি মরে গেলেই ভালো হতো।” তার এই বক্তব্যে সংসদ অধিবেশনে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মর্যাদা রক্ষা করা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক দায়িত্ব। স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস বিকৃতি রোধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
Leave a comment