Home আন্তর্জাতিক বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইসরায়েল

Share
Share

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসরায়েল। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানী তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে আদালতের বেঁধে দেওয়া জনসমাগমের সীমা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ সরকারবিরোধী এক বিশাল সমাবেশে অংশ নেন। মূলত ইরান যুদ্ধের অবসান এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

টাইমসের অফ ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট নিরাপত্তার অজুহাতে তেল আবিবে সর্বোচ্চ ১ হাজার এবং হাইফাতে মাত্র ১৫০ জনের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল। তবে বাস্তবচিত্রে দেখা যায়, কেবল হাবিমা স্কয়ারেই প্রায় ২ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে এই বিধিনিষেধ বহাল ছিল। তবে বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও এদিন পুলিশকে তুলনামূলক নমনীয় ভূমিকায় দেখা গেছে।

টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো চলা এই আন্দোলনে বামপন্থী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন একাত্মতা পোষণ করেছে। সমাবেশের অন্যতম আয়োজক অ্যালন লি গ্রিন অভিযোগ করেন, সরকার ‘জরুরি অবস্থা’ জারি রেখে জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব করছে এবং এই সুযোগে বিচার বিভাগীয় বিতর্কিত আইনগুলো পাস করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির মামলার ত্বরান্বিত বিচার এবং অতি-অর্থোডক্স শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তের বাতিল।

সমাবেশে উপস্থিত হয়ে আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ‘হাদাশ’-এর প্রধান আয়মান ওদেহ এক জোরালো বক্তব্যে বলেন, “যুদ্ধের জন্য ইহুদি-আরব অংশীদারিত্বের প্রয়োজন না থাকলেও শান্তির জন্য এই দুই সম্প্রদায়ের ঐক্য অপরিহার্য।” তিনি বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে আরও বলেন যে, তারা সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোনো নৈতিক বিকল্প দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়েছে।

তেল আবিব ছাড়াও জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ার এবং হাইফাতেও শত শত মানুষ একই দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। জেরুজালেমে পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে জরিমানা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করলেই পুলিশ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পারে না, বিশেষ করে হাবিমা স্কয়ারের নিচে বিশাল বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থাকায় নিরাপত্তার ঝুঁকি কম। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর স্কুল ও কর্মক্ষেত্রের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে, তবে লেবানন সীমান্ত দিয়ে হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাত চলমান থাকায় উত্তর ইসরায়েলের হাইফাসহ অন্যান্য অঞ্চলে এখনো কঠোর বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে।

সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে লন্ডন পুলিশ

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে দেশটির পুলিশ। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করতে সাধারণ...

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ওপর কেন ক্ষেপল মোদি সরকার

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টেক্সাসের হিউস্টনে এক যৌথ সমাবেশে ৫০ হাজারের...

Related Articles

বিপুল অর্থ ঢেলেও লাভ হয়নি, মাস্কের সমর্থিত অধিকাংশ প্রার্থীই পরাজিত

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথকে...

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেলেন বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না...

ইরানে হামলা চালিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত হবে না মার্কিন জনমত উপেক্ষা করা: গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির সাধারণ ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁদের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে...

ট্রাম্পের নির্বাচনি পরাজয়ে অস্বস্তিতে নেতানিয়াহু, চাপে ইসরায়েল

  যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টির বড়...

;